পোস্টগুলি

সূর্য কেন উঠে, আবার অস্ত যায়?

ছবি
  সূর্য কেন উঠে, আবার অস্ত যায়? | নিতাই বাবু ☀️ সূর্য কেন উঠে, আবার অস্ত যায়? সূর্য কেন উঠে, আবার অস্ত যায়? এই প্রশ্ন শুনলে মনে হয় যেন প্রকৃতির রহস্যময় এক ধাঁধা। কিন্তু প্রকৃতি কোনো রহস্য নয় — সে এক অবিরাম চলমান সত্য। সূর্য ওঠে, আলো ছড়ায়, তারপর আবার ডুবে যায়। এই উঠা-নামার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের এক অনিবার্য শিক্ষা — সব কিছুরই শুরু আছে, আর একদিন শেষও আছে। মানুষও তো তাই। জন্মের দিন আমরা যেমন প্রথম আলো দেখি, তেমনি মৃত্যুর সময় ডুবে যাই অস্তসূর্যের মতো। কেউ দেখে আনন্দে, কেউ দেখে বিষণ্ণ চোখে — কিন্তু কেউই থামাতে পারে না সেই চলমান চক্রকে। “সূর্য অস্ত যায়, কিন্তু আলো হারায় না — ঠিক তেমনি মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার ভালোবাসা রয়ে যায়।” দিনের আলো যেমন রাতের অন্ধকারে হারিয়ে গিয়ে আবার নতুন ভোরে ফিরে আসে, তেমনি মানুষের জীবনের প্রতিটি দুঃখ একসময় সুখে রূপ নেয়। আজ যা হারাচ্ছি, কাল হয়তো তা অন্যরূপে ফিরে আসবে। জীবন থেমে থাকে না, থেমে থাকেনা সময়ও। সূর্যের ওঠা-অস্ত আসলে প্রকৃতির ভাষায় এক অনন্ত চক্র — জন্ম, বেঁচে থাকা আর বিলীন হয়ে যাওয়া। এটি কোনো হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং এক রূপান্তর। য...

মনে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার কথা

ছবি
  মনে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার কথা | নিতাই বাবু 🇧🇩 মনে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার কথা মনে পড়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আর মহান স্বাধীনতার কথা! ২৫শে মার্চ — রাতের আঁধারে যখন বাংলাদেশের ইতিহাস রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, আমি তখন চতুর্থ শ্রেণির এক কাঁচা ছাত্র। কিন্তু বয়স কম হলেও, চারপাশের আতঙ্ক আর গুলির শব্দে শিশুমনটা তখনই বুঝে নিয়েছিল — কিছু এক ভয়ংকর ঘটছে। চারদিক থেকে গুলির শব্দ, চিৎকার, আগুনের লেলিহান শিখা — যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে! মা আমাদের কোলের মধ্যে নিয়ে বসে কাঁদছেন, আর বাবা তখন নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন লক্ষ্মণ খোলা গ্রাম সংলগ্ন আদর্শ কটন মিলস্‌-এ চাকরিরত। মা একা! মা বাইরে তাকিয়ে আছেন উদ্বিগ্ন চোখে। মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো ছিল এক অনন্ত ভয়, ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার সময়। তারপর ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ — বিজয়ের সূর্য ওঠে, আর বাংলাদেশ নামে একটি ছোট দেশ বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা পায়। মনে হয়েছিল, এবার হয়তো শান্তি ফিরে আসবে, অন্তত ক্ষুধার মধ্যেও একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানো যাবে। কিন্তু না, যুদ্ধ শেষ হলেও অশান্তি শেষ হয়নি। রাতের আধারে চোর-ডাকাতের ভয়, প্রতিশো...

সূর্য কেন উঠে, নদী কেন শুকায় — জীবনের প্রশ্ন ও উত্তর

ছবি
  সূর্য উঠা-ডোবার রহস্য: প্রশ্ন ও উত্তর — নিতাই বাবু সূর্য কেন উঠে, আবার কোথায় হারিয়ে যায়? একটি প্রশ্ন—প্রকৃতির দৃশ্যপট এবং মানুষের অন্তর্দৃষ্টি একসাথে মিশে থাকা; এখানে প্রতিটি প্রশ্নের পর আমি সংক্ষিপ্ত বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিক ব্যাখ্যা দিলাম, তারপর কিছু প্রতিফলন। প্রশ্ন — সূর্য কেন উঠে, আবার কোথায় হারিয়ে যায়? সোজা উত্তরটা বললে: সূর্য উঠছে না ; পৃথিবী নিজেই ঘোরে—পৃথিবীর ঘূর্ণন আমাদের দেখায় সূর্যের উদয় ও অস্ত। পৃথিবীর পূর্বদিকে ঘোরার কারণে আমাদের দিগন্তে সূর্যের আলো প্রথম দেখা যায়; সে-ই ঘূর্ণন চালিয়ে নেয় সূর্যকে যেন ডুবতে দেখা যায়। আরো গভীরে গেলে এটাও বলতে হয়: মানুষই এই চলমান দৃশ্যকে আরোপ করে — সকালকে শুরু, সন্ধ্যাকে সমাপ্তি। প্রকৃতির এই নিয়মে সময়ের ছন্দ লুকিয়ে আছে: সকাল নতুন সম্ভাবনা, সন্ধ্যা একটি আচ্ছন্নতা। তাই “হারে কই কোথায় হারায়”—প্রকৃতপক্ষে সে অন্য কোথাও যায় না; আমরা শুধু সেই পরিবর্তনকে অনুভব করি, নামটি বদলে ফেলি—উৎপত্তি থেকে অবসান, আলো থেকে ছায়া। প্রশ্ন — পাহাড় কেন কাঁদে? পাহাড়ের কাঁদা—প্রকৃতপক্ষে সেটি বৃষ্টি, ঝড়, বিক্ষিপ্ত বরফ...

সুখ-দুঃখের জীবনচক্র: জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তের গুরুত্ব

ছবি
  সুখ-দুঃখের জীবনচক্র: জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তের গুরুত্ব সুখ-দুঃখের জীবনচক্র: জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তের গুরুত্ব জীবন মানে শুধুই বড় অর্জন নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তের সমষ্টি। সুখ এবং দুঃখ একসাথে মিলে আমাদের জীবনের রঙিন চিত্র তৈরি করে। আমরা যখন ছোট ছোট অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিই, তখনই জীবনের সত্যিকার মানে উপলব্ধি করতে পারি। ১. ছোট সুখের মুহূর্ত এক কাপ চায়ের সাথে সকালের হালকা বাতাস, প্রিয় বন্ধুদের সাথে হাসি-ঠাট্টা—এগুলো ছোট সুখের মুহূর্ত। প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করা মানে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। ২. দুঃখ ও তার শিক্ষা দুঃখ আমাদের শক্তিশালী করে। সমস্যা ও হতাশা থেকে আমরা শেখার সুযোগ পাই। প্রতিটি দুঃখজনক মুহূর্ত আমাদের জীবনের এক অধ্যায় সম্পন্ন করে, যা পরবর্তীতে সফলতার মূল হয়ে দাঁড়ায়। ৩. জীবনের ছন্দ জীবন একটি ছন্দের মতো, যেখানে সুখ এবং দুঃখ একসাথে মিলে একটি সম্পূর্ণ সুর তৈরি করে। যদি আমরা শুধুমাত্র সুখের দিকে তাকাই, দুঃখের মূল্য বুঝতে পারি না। তাই প্রতিটি মুহূর্তকে স্বীকৃতি দিন। ৪. ছোট অভিজ্ঞতার মূল্য বড় সাফল্য অনেক সময় একটি ছোট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আস...

বাংলাদেশের ঈশাখাঁর রাজধানী সোনার গাঁ: ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গুরুত্ব

ছবি
  বাংলাদেশের ঈশাখাঁর রাজধানী সোনার গাঁ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বাংলাদেশের ঈশাখাঁর রাজধানী সোনার গাঁ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অগণিত অধ্যায়ের মধ্যে ঈশাখাঁর রাজধানী সোনার গাঁ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সোনার গাঁ শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, এটি বাংলার প্রাচীন সভ্যতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসপ্রেমী, পর্যটক ও গবেষকদের জন্য এটি এক অনন্য স্থান। ১. ভৌগোলিক অবস্থান সোনার গাঁ বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা,সোনার গাঁ উপজেলা এলাকায় অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও সবুজ প্রকৃতির জন্য সুপরিচিত। নদীমাতৃক বাংলাদেশের এই অঞ্চলে সোনার গাঁ সহজে প্রবেশযোগ্য, এবং নিকটবর্তী প্রধান শহর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত। সোনার গাঁ-এর ভূপ্রকৃতি নদী, খাল ও প্রাকৃতিক উদ্যান দ্বারা সমৃদ্ধ, যা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। ২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঈশাখাঁর রাজধানী হিসেবে সোনার গাঁ-এর ইতিহাস বহু শতাব্দী প্রাচীন। এটি প্রাচীনকালের বিভিন্ন শাসক ও সাম্রাজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্...

কামরূপ ও কামাখ্যা — দুটি নাম, এক ঐতিহ্যের দুই দিক

ছবি
  🌺 কামরূপ ও কামাখ্যা — রহস্য নয়, শক্তির প্রতীক | নিতাই বাবু 🌺 কামরূপ ও কামাখ্যা — রহস্য নয়, শক্তির প্রতীক শুনেছি কামরূপ হলো ভারতের অসম রাজ্যের একটি জেলার নাম। আর এই কামরূপ জেলাতেই অবস্থিত বিখ্যাত কামাখ্যা দেবী মন্দির । তাই মানুষ অনেক সময় একসাথে উচ্চারণ করে — “ কামরূপ কামাখ্যা ”। আসলে কামরূপ হলো একটি অঞ্চলের নাম , আর কামাখ্যা হলো সেই অঞ্চলের দেবী মন্দিরের নাম । 🏞️ কামরূপের অবস্থান ও প্রাচীন পরিচয় কামাখ্যা দেবী মন্দির অবস্থিত ভারতের অসম রাজ্যের রাজধানী গৌহাটির নীলাচল পাহাড়ে । প্রাচীনকালে এই অঞ্চলকে বলা হতো “কামরূপ” — যার অর্থ “যেখানে কাম (ইচ্ছা বা সৃষ্টি) রূপ নেয়”। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, এটি একসময় ছিল ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম। বিশ্বাস করা হয়, সতী দেবীর যোনি বা গর্ভদেশ এই স্থানে পতিত হয়েছিল। তাই দেবী এখানে ‘কামাখ্যা’ নামে পূজিতা হন — অর্থাৎ যিনি কাম বা সৃষ্টিশক্তির অধিষ্ঠাত্রী। 🕉️ তন্ত্র সাধনা ও কামাখ্যা কামাখ্যা মন্দির মূলত তন্ত্র সাধনার কেন্দ্র । এখানে শাক্ত উপাসনা বা দেবী শক্তির সাধনা হয় — যা আসলে আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের পথ, কোনো “কালো যাদু”...

মানুষ হয়ে মানুষ মারার মারণাস্ত্র এবং নির্মাতাদের পরিণতি

ছবি
  মানুষ হয়ে মানুষ মারার মারণাস্ত্র এবং নির্মাতাদের পরিণতি | নিতাই বাবু মানুষ হয়ে মানুষ মারার মারণাস্ত্র এবং নির্মাতাদের পরিণতি মানুষ হয়ে মানুষ মারার জন্য মারণাস্ত্র তৈরি করা মানব ইতিহাসের এক তীব্র পরিহাস। ক্ষমতা, লোভ এবং প্রতিযোগিতার প্রবণতায় মানুষ এমন অস্ত্র আবিষ্কার করেছে যা পরে নিজেকেই বিপর্যস্ত করতে পারে। আশ্চর্যের বিষয়, অনেক সময় দেখা গেছে—যারা এই মারণাস্ত্র তৈরি করেছে, তাঁরা নিজেরাই সেই অস্ত্রের মুখে জীবন হারিয়েছে। এটি শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, বরং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক পরিণতি। মারণাস্ত্র ও মানুষের দ্বন্দ্ব মারণাস্ত্র তৈরি করা মানুষকে প্রাথমিকভাবে শক্তিশালী মনে করাতে পারে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ও মানবতার জন্য ভয়ংকর। ইতিহাসে বহু উদাহরণ আছে, যেখানে প্রযুক্তিগত বা সামরিক আবিষ্কারকরা তাদের নিজেরই সৃষ্টি দ্বারা বিপর্যস্ত হয়েছেন। যুদ্ধাস্ত্রের বিকাশ মানবজাতিকে অনেক শক্তি দিয়েছে, কিন্তু সেই শক্তি দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার সঙ্গে না থাকলে বিপর্যয় আনতে সক্ষম। নৈতিক শিক্ষা এই ঘটনা আমাদেরকে শিখিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি বা অস্ত্রের শক্তি সবসময় শুভ কাজে ব্যবহার করা যায় না। মা...