পোস্টগুলি

ভ্রমণ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সেবক ব্রিজ— পাহাড়, নদী ও অদেখা সিকিম

ছবি
শিলিগুড়ি থেকে বীরপাড়া যাবার পথে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য চোখে পড়ে, তার অন্যতম নিদর্শন হল সেবক রোড এবং তার বুকে গড়া সেবক ব্রিজ । এই জায়গাটি শুধু একটি যাতায়াতের মোড় নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও হিমালয়ের পাদদেশীয় এলাকার এক গভীর সংযোগস্থল। সেবক রোড শুরু হয় শিলিগুড়ির ব্যস্ত শহরাঞ্চল থেকে, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নগরের কোলাহল পেছনে ফেলে মানুষ প্রবেশ করে প্রকৃতির শান্ত নিসর্গে। এই পথের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ স্থান হলো সেবক ব্রিজ। এটি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত এক চমৎকার সেতু, যা শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, প্রাকৃতিক দৃশ্যের দিক থেকেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। সেতুটির এক পাশে রয়েছে সিকিমে যাবার পথ , যা পাহাড় বেয়ে উঠে গেছে উপরের দিকে। আর মাঝ বরাবর, সেবক ব্রিজের এক কোণ ঘেঁষে চোখে পড়ে এক অনুচ্চ পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক কালীমন্দির । মন্দিরটির অবস্থান এমন যে, মনে হয় যেন মা কালীর কৃপাদৃষ্টি সারা সেবক রোড ও ব্রিজজুড়ে বিস্তৃত। ভক্তরা প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে মন্দিরে পুজো দিয়ে যান, সেখান থেকে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করেন। পাহাড়, নদী ও মন্দির—এই ত্...

ভুটান ফ্রুন্টসলিং ঘুরাঘুরির গল্প

ছবি
                সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভুটান ফ্রুন্টসলিং ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় একবার আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে ভারত গিয়েছিলাম। সময়টা ছিলো ১৯৯৩ সাল। যেদিন বেনাপোল বর্ডার পাড় হয়ে ওপার বনগাঁ পৌঁছেছিলাম, সেদিন ছিলো পহেলা বৈশাখ ১৪০০ বঙ্গাব্দ।  সেদিনের ওই যাত্রায় আমরা ছিলাম চারজন। আমি, আমার বন্ধু ও বন্ধুর দুই বোন। বনগাঁ থেকে রাত দশটার ট্রেনে চড়ে দমদম নামলাম। রাত তখন প্রায়ই বারোটা।  তারপর আমার বন্ধুর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর বাড়িতে গেলাম, রাতা কাটানোর জন্য। সেই বাড়িতে রাত কাটিয়ে পরদিন ভোরবেলা দমদম থেকে শিয়ালদা। শিয়ালদা নেমে একটা অটো চেপে সোজা বন্ধুর বাসায়।  ওই বন্ধুর বাড়িতে রাত যাপন করে খুবই ভোরবেলা আবার দমদম রেলস্টেশনে এলাম, শিয়ালদহ যাবার জন্য। যখন দমদম রেলস্টেশনে এলাম, তখনও শিয়ালদহ গামী ট্রেন দমদম রেলস্টেশনে পৌঁছায়নি। এই ফাঁকে আমার বন্ধু স্টেশন থেকে চারটে টিকেট সংগ্রহ করে ফেললো। ট্রেন আসতে তখনও মিনিট কয়েক বাকি ছিলো। একসময় শিয়ালদাহ গামী ইলেকট্রনিক ট্রেন দমদম স্টেশনে এসে দাঁড়ালো। দমদম স্টেশনে নামার মতো যাত্রীরা ট্রেন থেকে নামলো আমরা চারজ...

ভারতের মেট্রোরেলে চড়ার আনন্দ ও অভিজ্ঞতার গল্প

ছবি
                    কলকাতা ধর্মতলা মেট্রোরেল স্টেশন। একসময় ভারতের মাটিতে পা রেখেছিলাম, ১৪০০ বঙ্গাব্দ। তখন  বৈশাখমাস। বাংলাদেশ থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে দালাল মারফত অতি কষ্টে সীমান্ত পেরিয়ে বনগাঁ রেলস্টেশন পৌঁছেছিলাম। আমার সাথে ছিল, আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ওর দুই বোন।  যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, জীবনটাকে একটু পরিবর্তন করার। কিন্তু না, জীবন তো পরিবর্তন করতে পারি-ই-নি, বরং ওখানে প্রায় দেড়বছর অবস্থান করে শেষাবধি শূন্য হাতে আবার ফিরে আসতে হলো। এরমধ্যে লাভ হয়েছিল, বিশাল ভারত-সহ ভারত ঘেঁষা ভুটানের কয়েকটা জায়গা দেখা হয়েছিল। তো যাক সেকথা, পোস্টের মূল কথায়। ভারত যাবার পর আমার বন্ধু বাসায় অবস্থানের পর, আমার যেন কিছুই ভালো লাগছিল না। ভালো না লাগার কারণ ছিল, বাংলাদেশে ফেলে রাখা স্ত্রী-সন্তাদের নিয়ে চিন্তা। সেই চিন্তা মনের ভেতরে রেখেই কাটিয়ে দিলাম চার-পাঁচদিন।  চার-পাঁচদিন পর একদিন সকালবেলা আমার বন্ধু কানাই বলল, “চল দুইজনে টাউনে গিয়ে ঘুরে আসি।” জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় যাবি?”  কানাই বলল, “আজ তোকে মেট্রো ট্রেনে চড়াব। আর সময় পেলে ...

ভুটানের গুমটু টাউনে ঘুরাঘুরির গল্প

ছবি
  ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার বীরপাড়া সংলগ্ন        মাকড়াপাড়া  ঘেঁষা ভুটানের গুমটু সীমান্ত গেইট।  একবার আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে ভারত গিয়েছিলাম। সময়টা তখন ১৯৯৩ ইংরেজি ১৪০০ বঙ্গাব্দ। গিয়েছিলাম মস্ত বড় আশা নিয়ে। কিন্তু মনের সেই আশা আর পূরণ হয়নি। খামোখা দেড়বছ নিজের পরিবারবর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছিলাম। লাভের মধ্যে ভাল হয়েছিল আমার বড়দি'র বাড়ির আশপাশে থাকা ভুটানের কয়েকটা জায়গায় ঘুরতে পেরেছিলাম।  আমার বড়দি'র বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বীরপাড়া। বীরপাড়া গিয়েছিলাম, ১৯৯৩ ইং, পহেলা বৈশাখ ১৪০০ বঙ্গাব্দ। বীরপাড়া হলো কোলকাতা থেকে শিলিগুড়ি হয়ে মিজোরাম যাওয়ার পথিমধ্যে।  বীরপাড়া ভুটানের পাহাড় ঘেঁষা চা-বাগানের লীলাভূমি জনবহুল একটা জায়গার নাম। আর আমার বড়দি'র বাড়ি হলো, বীরপাড়া এলাকায় রাবিন্দ্র নগর কলোনি।  কোলকাতা থেকে বড়দি'র বাড়ি বীরপাড়া গিয়েছিলাম খুবই বিপদে পড়ে। এমনই এক বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম যে, তখন আমার বড়দি'র বাড়িই ছিলো একমাত্র ভরসা।  আশা ভরসার একমাত্র উপায় হলেও  বড়দি'র বাড়ি ছিলো আমার অচেনা। তবে আমার মনে খ...