পোস্টগুলি

জুন ১৫, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সেবক ব্রিজ— পাহাড়, নদী ও অদেখা সিকিম

ছবি
শিলিগুড়ি থেকে বীরপাড়া যাবার পথে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য চোখে পড়ে, তার অন্যতম নিদর্শন হল সেবক রোড এবং তার বুকে গড়া সেবক ব্রিজ । এই জায়গাটি শুধু একটি যাতায়াতের মোড় নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও হিমালয়ের পাদদেশীয় এলাকার এক গভীর সংযোগস্থল। সেবক রোড শুরু হয় শিলিগুড়ির ব্যস্ত শহরাঞ্চল থেকে, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নগরের কোলাহল পেছনে ফেলে মানুষ প্রবেশ করে প্রকৃতির শান্ত নিসর্গে। এই পথের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ স্থান হলো সেবক ব্রিজ। এটি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত এক চমৎকার সেতু, যা শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, প্রাকৃতিক দৃশ্যের দিক থেকেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। সেতুটির এক পাশে রয়েছে সিকিমে যাবার পথ , যা পাহাড় বেয়ে উঠে গেছে উপরের দিকে। আর মাঝ বরাবর, সেবক ব্রিজের এক কোণ ঘেঁষে চোখে পড়ে এক অনুচ্চ পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক কালীমন্দির । মন্দিরটির অবস্থান এমন যে, মনে হয় যেন মা কালীর কৃপাদৃষ্টি সারা সেবক রোড ও ব্রিজজুড়ে বিস্তৃত। ভক্তরা প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে মন্দিরে পুজো দিয়ে যান, সেখান থেকে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করেন। পাহাড়, নদী ও মন্দির—এই ত্...

সাধু: বাঙালির অন্তর্মূল্য ও উভয়তার দর্শন

ছবি
✍️ নিতাই বাবু ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের বিষয়ে আমার একটা গভীর আগ্রহ বহুদিনের। “আমরা কে?”, “আমাদের স্বভাব কোথা থেকে এসেছে?”, “বাংলা শব্দের ভেতরে কী ইতিহাস লুকিয়ে আছে?” — এই প্রশ্নগুলো আমাকে বারবার নাড়া দেয়। সম্প্রতি রবি চক্রবর্ত্তী ও কলিম খানের 'শব্দার্থ পরিক্রমা' পড়ে মনে হলো, আমাদের শব্দগুলো শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এরা একেকটি জীবনদর্শন। এই ভাবনা থেকেই ‘সাধু’ শব্দটির দিকে মন গেল। কী আশ্চর্য—একটি ছোট্ট শব্দের মধ্যে কতটা সমাজতত্ত্ব, দর্শন ও ইতিহাস গাঁথা! সেই উপলব্ধিকে কেন্দ্র করেই এই প্রবন্ধটি রচনা করেছি। ভাবনার গঠন ও ভাষার বাঁধন দিতে আমার ডিজিটাল সহযোগী ‘চ্যাটজিপিটি’ পাশে ছিল। তবুও এটি আমার মনের কথা, আমার আত্মান্বেষণেরই প্রকাশ। আশা করি, পাঠক হৃদয়েও এই লেখাটি একধরনের চিন্তার স্পন্দন তুলবে। ভালো লাগলে মন্তব্য জানাবেন, মতামত জানাবেন—কারণ বাংলা ভাষা আর বাঙালিয়ানা নিয়ে আলোচনা যত বাড়বে, ততই আমরা নিজেদের চিনতে পারব। উভয়ের মহিমা : ‘সাধু’ শব্দার্থের সন্ধানে — অনুপ্রেরণায়: রবি চক্রবর্ত্তী ও কলিম খান ‘সাধু’—শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখে ভেসে ওঠে শান্ত মুখ, ত্যাগ...

মা-বাবার আশীর্বাদে মেয়ের বিয়ে ও কিছু অলৌকিক ঘটনা

ছবি
        আমার একমাত্র মেয়ে, অনিতা রাণী বিশ্বাস।  আমার বিবাহের তারিখ, ১৪ জুন ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, পহেলা আষাঢ়, ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ। বিয়ে করেছিলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখাঁন থানাধীন সুবচনী সংলগ্ন নয়াবাড়ি গ্রামের এক দরিদ্র হিন্দু পরিবারের মেয়ে।  আমার বিয়ের পর প্রায় আড়াই বছর পর ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে আমার একমাত্র মেয়ে অনিতা'র জন্ম হয়। মেয়ে অনিতা ভূমিষ্ঠ হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটির ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। তখন আমার গর্ভধারিণী মা জীবিত ছিলো। বাবা ছিলেন পরপারে।  আমি তখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১০নং ওয়ার্ড গোদনাইলস্থ কো-অপারেটিভ মহিউদ্দিন স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলে নামমাত্র বেতনে চাকরি করি। সন্তান  ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর পেয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার স্ত্রী হাসপাতালের সিটে সন্তান পাশে রেখে শুয়ে আছে। মা স্ত্রীর সিটের পাশে বসা। আমি সামনে যাওয়ার সাথে সাথে মা হেসে বললো, "এতক্ষণে এলি? আয় দেখ তোর সুন্দর একটা মেয়ে হয়েছে।"  মেয়ের কথা শুনেই আমি কেঁদে ফেললাম! আমার দু'চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছিল। মা আমার কাঁদা দেখে এক ধমক দিয়ে বললো, "এ-ই, কাঁদিস কেন?...

মা-বাবার আশীর্বাদে মেয়ের বিয়ে ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা

ছবি
🌺 মা‑বাবার আশীর্বাদে মেয়ের বিয়ে ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা মেয়ে বড় হয়েছে, এবার তার বিয়ের সময়। মা‑বাবা নেই, কিন্তু তাঁদের স্মৃতি, আশীর্বাদ—সবসময় আমার চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। বিয়ের দিনগুলোয় তাঁদের অভাব অনেক বেশি অনুভব করছিলাম। অবশেষে সেই বিশেষ দিনটি এলো। রাত ১০টা ৩০ মিনিট — নারায়ণগঞ্জ সিটির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, গোদনাইল, চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্‌‑এর আটপাড়ায় বরযাত্রী পৌঁছাল। ঢাক‑ঢোল, সানাই, উৎসবের উন্মাদনা—সবই মিলেমিশে তৈরি করল এক উৎসবমুখর পরিবেশ। 🌧️ অলৌকিক অভিজ্ঞতা আমাদের এলাকায় ছিল প্রতিদিন লোডশেডিং , সঙ্গে অঝোর বৃষ্টি । তবে আশ্চর্যজনকভাবে, বিয়ের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে বিয়ের পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত একবারও বিদ্যুৎ যায়নি ও বৃষ্টি হয়নি! সকালে শান্তিতে বাসি বিবাহের সব রীতি সম্পন্ন হলো। বেলা ১১টায় বরযাত্রী ও নববধূ বিদায় নিলেন। আর ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে গেল, সঙ্গে শুরু হলো একটানা বৃষ্টি! যেন আকাশও আমাদের মেয়েকে বিদায় জানিয়ে কেঁদে উঠলো। এই সব দেখে অনুভব করলাম—এ সবই ছিল আমার মা‑বাবার অদৃশ্য আশীর্বাদ। তাঁরা শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ যেন আকাশে, বা...