পোস্টগুলি

স্মৃতিচারণ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মনে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার কথা

ছবি
  মনে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার কথা | নিতাই বাবু 🇧🇩 মনে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতার কথা মনে পড়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আর মহান স্বাধীনতার কথা! ২৫শে মার্চ — রাতের আঁধারে যখন বাংলাদেশের ইতিহাস রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, আমি তখন চতুর্থ শ্রেণির এক কাঁচা ছাত্র। কিন্তু বয়স কম হলেও, চারপাশের আতঙ্ক আর গুলির শব্দে শিশুমনটা তখনই বুঝে নিয়েছিল — কিছু এক ভয়ংকর ঘটছে। চারদিক থেকে গুলির শব্দ, চিৎকার, আগুনের লেলিহান শিখা — যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে! মা আমাদের কোলের মধ্যে নিয়ে বসে কাঁদছেন, আর বাবা তখন নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন লক্ষ্মণ খোলা গ্রাম সংলগ্ন আদর্শ কটন মিলস্‌-এ চাকরিরত। মা একা! মা বাইরে তাকিয়ে আছেন উদ্বিগ্ন চোখে। মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো ছিল এক অনন্ত ভয়, ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার সময়। তারপর ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ — বিজয়ের সূর্য ওঠে, আর বাংলাদেশ নামে একটি ছোট দেশ বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা পায়। মনে হয়েছিল, এবার হয়তো শান্তি ফিরে আসবে, অন্তত ক্ষুধার মধ্যেও একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানো যাবে। কিন্তু না, যুদ্ধ শেষ হলেও অশান্তি শেষ হয়নি। রাতের আধারে চোর-ডাকাতের ভয়, প্রতিশো...

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি: স্বাধীনতা দেখেছি

ছবি
  🕊️ আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি: স্বাধীনতা দেখেছি! মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তখন আমার বয়স মাত্র আট বছর। শিশুমনে তখনকার ভয়, আতঙ্ক আর গর্ব—সব মিশে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে আছে আজও। আমি তখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। বয়স কম হলেও বুঝতাম অনেক কিছু। চোখের সামনে দেখতাম কেমন করে আমাদের গ্রামে হঠাৎ হঠাৎ ছুটে আসে আতঙ্ক আর মৃত্যুভয়। আমার মা—এক অসাধারণ সাহসিনী—সন্ধ্যা নামার আগেই আমার তিন বোনকে মাটির ঘরের পেছনের সুপারি বাগানে খুঁড়ে রাখা গর্তে লুকিয়ে রাখতেন। পুরো রাত তারা সেখানেই কাটাতো, ঠান্ডা, অন্ধকার আর আতঙ্কের মধ্যে। কাকডাকা ভোরে মা গিয়ে আবার সেই গর্ত থেকে টেনে তুলতেন, যেন একটু প্রাণ ফিরে পেত তারা। আমার বড় জেঠা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি পুলিশ সদস্য। তাঁর সাহসী চরিত্র এবং স্থানীয়দের প্রতি সহমর্মিতা ছিল অনুকরণীয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের বাড়িতে আসতেন। জেঠার সঙ্গে বসতেন, চা খেতেন, আলোচনা করতেন। ছোট্ট আমি তখন চুপিচুপি গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা স্টেনগান কিংবা রাইফেলের পাশে দাঁড়াতাম। সেগুলো স্পর্শ করতাম খুব ধীরে, যেন সাহস আর ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখছি। তারপর এলো সেই অবি...

মোবাইলের যুগে ডাকবাক্স শুধুই একটা পরিত্যক্ত লোহার বাক্স

ছবি
গত বছর সাতেক আগে একটা জরুরি কাজে নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিলাম। যাচ্ছিলাম অটো চড়ে। হাজীগঞ্জ ফেরিঘাট পেরিয়ে যখন কিল্লারপুলের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, রাস্তার বাম পাশে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে একটা ডাকবাক্স দেখতে পেলাম—যা এখনও একইভাবে ঠিক আগের জায়গাতেই আছে। ডাকবাক্সটি অনেক আগে থেকেই এখানে বসানো হয়েছিল। তবে আগে ডাকবাক্সটির সামনে এত ময়লা-আবর্জনা ছিল না, সবসময় পরিষ্কারই ছিল। বর্তমানে ডাকবাক্সটি পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায়। ডাকবাক্সটি ময়লার স্তুপের উপর ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বাক্সের চারপাশে জঙ্গলে একাকার। দেখে মনে হয়, হয়তো মাসে না হয় বছরে একবার এই ডাকবাক্সটির তালা খোলা হয়।  ডাকবাক্সটির অবস্থান হাজীগঞ্জ কিল্লারপুল সংলগ্ন ড্রেজার সংস্থার মেইন গেট ঘেঁষা। ডাকবাক্সটি দেখে নিজের স্মৃতিতে থাকা আগেকার কথা মনে পড়ে গেল। একসময় এদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে ডাকবাক্স ছিল খুবই সম্মানী বস্তু। এই ডাকবাক্স ছিল অগণিত মানুষের সুখ-দুঃখের সাথি। এসবের জ্বলন্ত সাক্ষী আমি নিজেই। দেখতাম, একটা চিঠির অপেক্ষায় আমার মা ডাকপিয়নের বাড়িতেও দৌড়াতেন। বাবার প্রেরিত চিঠি মা হাতে পেয়ে অস্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেন। চিঠি হাতে পেয়ে ডাকপিয়নকে কত না অনুরোধ করতে...

ভুলে থাকা যায় না

ছবি
ভুলে থাকা যায় না লিখেছেন: নিতাই বাবু ১৯৮৪ সালের শুরু। নারায়ণগঞ্জের গলাচিপা গোয়ালপাড়ায় বড়দার সংসারে থাকতাম মা-সহ। আয়-রোজগার নিয়ে কথাকাটাকাটির পর মা'কে নিয়ে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। নগর খাঁনপুরে হিন্দু ভাড়িওয়ালা শ্যামসুন্দর সাহার বাড়িতে এক ঘর ভাড়া নেই—মাসিক ভাড়া মাত্র ১৫০ টাকা। তখনও আমি অবিবাহিত। চাকরি করি কিল্লার পুলের ফাইন টেক্সটাইল মিলে—বেতন ২০০০ টাকা। মা আর আমি—দুজনের সংসার ভালোভাবেই চলতো। বাসায় ওঠার দিন ছিল শুক্রবার। রিকশায় করে সামান্য মালপত্র নিয়ে এলাম নতুন ঠিকানায়। বাড়ির সামনে পুকুর, আর তার পাশেই রাস্তা ও ভাড়া বাসা। মাল নামানোর সময়ই নজরে পড়লো এক অপার রূপবতী মেয়ের দিকে—গায়ের রং ফর্সা, হাঁটুর নিচ পর্যন্ত চুল, দেবীমূর্তির মতো চেহারা। বারবার আমাদের দিকেই তাকাচ্ছে। আমার সহচর ছিল কানাই লাল—এই এলাকা সম্পর্কে পূর্বপরিচিত। ও-ই বাসা খুঁজে দিয়েছিল। মাল উঠাতে গিয়ে সংকোচ হচ্ছিল—আমাদের গরিবি জিনিসপত্র অন্য ভাড়াটিয়াদের তুলনায় লজ্জাজনক মনে হচ্ছিল। তখনই মেয়েটি এসে বললো, “আপনারা না পারলে আমি সাহায্য করবো?” আমরা না করলেও সে একটি বস্তা হাতে করে ঘরে রেখে এলো। ...

সেবক ব্রিজ— পাহাড়, নদী ও অদেখা সিকিম

ছবি
শিলিগুড়ি থেকে বীরপাড়া যাবার পথে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য চোখে পড়ে, তার অন্যতম নিদর্শন হল সেবক রোড এবং তার বুকে গড়া সেবক ব্রিজ । এই জায়গাটি শুধু একটি যাতায়াতের মোড় নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ ও হিমালয়ের পাদদেশীয় এলাকার এক গভীর সংযোগস্থল। সেবক রোড শুরু হয় শিলিগুড়ির ব্যস্ত শহরাঞ্চল থেকে, এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নগরের কোলাহল পেছনে ফেলে মানুষ প্রবেশ করে প্রকৃতির শান্ত নিসর্গে। এই পথের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ স্থান হলো সেবক ব্রিজ। এটি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত এক চমৎকার সেতু, যা শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, প্রাকৃতিক দৃশ্যের দিক থেকেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। সেতুটির এক পাশে রয়েছে সিকিমে যাবার পথ , যা পাহাড় বেয়ে উঠে গেছে উপরের দিকে। আর মাঝ বরাবর, সেবক ব্রিজের এক কোণ ঘেঁষে চোখে পড়ে এক অনুচ্চ পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক কালীমন্দির । মন্দিরটির অবস্থান এমন যে, মনে হয় যেন মা কালীর কৃপাদৃষ্টি সারা সেবক রোড ও ব্রিজজুড়ে বিস্তৃত। ভক্তরা প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে মন্দিরে পুজো দিয়ে যান, সেখান থেকে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করেন। পাহাড়, নদী ও মন্দির—এই ত্...

মা-বাবার আশীর্বাদে মেয়ের বিয়ে ও কিছু অলৌকিক ঘটনা

ছবি
        আমার একমাত্র মেয়ে, অনিতা রাণী বিশ্বাস।  আমার বিবাহের তারিখ, ১৪ জুন ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, পহেলা আষাঢ়, ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ। বিয়ে করেছিলাম, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখাঁন থানাধীন সুবচনী সংলগ্ন নয়াবাড়ি গ্রামের এক দরিদ্র হিন্দু পরিবারের মেয়ে।  আমার বিয়ের পর প্রায় আড়াই বছর পর ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে আমার একমাত্র মেয়ে অনিতা'র জন্ম হয়। মেয়ে অনিতা ভূমিষ্ঠ হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটির ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। তখন আমার গর্ভধারিণী মা জীবিত ছিলো। বাবা ছিলেন পরপারে।  আমি তখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১০নং ওয়ার্ড গোদনাইলস্থ কো-অপারেটিভ মহিউদ্দিন স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলে নামমাত্র বেতনে চাকরি করি। সন্তান  ভূমিষ্ঠ হওয়ার খবর পেয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার স্ত্রী হাসপাতালের সিটে সন্তান পাশে রেখে শুয়ে আছে। মা স্ত্রীর সিটের পাশে বসা। আমি সামনে যাওয়ার সাথে সাথে মা হেসে বললো, "এতক্ষণে এলি? আয় দেখ তোর সুন্দর একটা মেয়ে হয়েছে।"  মেয়ের কথা শুনেই আমি কেঁদে ফেললাম! আমার দু'চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছিল। মা আমার কাঁদা দেখে এক ধমক দিয়ে বললো, "এ-ই, কাঁদিস কেন?...

মা-বাবার আশীর্বাদে মেয়ের বিয়ে ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা

ছবি
🌺 মা‑বাবার আশীর্বাদে মেয়ের বিয়ে ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা মেয়ে বড় হয়েছে, এবার তার বিয়ের সময়। মা‑বাবা নেই, কিন্তু তাঁদের স্মৃতি, আশীর্বাদ—সবসময় আমার চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। বিয়ের দিনগুলোয় তাঁদের অভাব অনেক বেশি অনুভব করছিলাম। অবশেষে সেই বিশেষ দিনটি এলো। রাত ১০টা ৩০ মিনিট — নারায়ণগঞ্জ সিটির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, গোদনাইল, চিত্তরঞ্জন কটন মিলস্‌‑এর আটপাড়ায় বরযাত্রী পৌঁছাল। ঢাক‑ঢোল, সানাই, উৎসবের উন্মাদনা—সবই মিলেমিশে তৈরি করল এক উৎসবমুখর পরিবেশ। 🌧️ অলৌকিক অভিজ্ঞতা আমাদের এলাকায় ছিল প্রতিদিন লোডশেডিং , সঙ্গে অঝোর বৃষ্টি । তবে আশ্চর্যজনকভাবে, বিয়ের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে বিয়ের পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত একবারও বিদ্যুৎ যায়নি ও বৃষ্টি হয়নি! সকালে শান্তিতে বাসি বিবাহের সব রীতি সম্পন্ন হলো। বেলা ১১টায় বরযাত্রী ও নববধূ বিদায় নিলেন। আর ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে গেল, সঙ্গে শুরু হলো একটানা বৃষ্টি! যেন আকাশও আমাদের মেয়েকে বিদায় জানিয়ে কেঁদে উঠলো। এই সব দেখে অনুভব করলাম—এ সবই ছিল আমার মা‑বাবার অদৃশ্য আশীর্বাদ। তাঁরা শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ যেন আকাশে, বা...