পোস্টগুলি

নৈতিকতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কিসের এতো অহংকার? কী নিয়ে অহংকার? — জীবনের বিনয়ের শিক্ষা

ছবি
  কিসের এতো অহংকার? কী নিয়ে অহংকার? | নিতাই বাবু কিসের এতো অহংকার? কী নিয়ে অহংকার? মানুষ বড় অদ্ভুত প্রাণী। জন্মের সময় কান্না নিয়ে আসে, মৃত্যুর সময় নীরবতায় মিলিয়ে যায়— তবুও মাঝখানে কিছু সাময়িক অর্জনকে স্থায়ী মনে করে অহংকারে ভরে ওঠে। কেউ বলে— “আমার ধন আছে”, কেউ বলে— “আমার ক্ষমতা আছে”, আবার কেউ বলে— “আমি জ্ঞানী, আমি সেরা।” অথচ সময়ের ঘূর্ণিপাকে সবকিছু বিলীন হয়ে যায়। অহংকারের মূল উৎস অহংকারের জন্ম হয় অজ্ঞানতা থেকে। মানুষ ভুলে যায় যে, তার দেহ একমুঠো মাটি আর অল্প কিছু নিশ্বাসের ধারায় টিকে আছে। এই নিশ্বাস এক মুহূর্ত বন্ধ হলে, সব জাঁকজমক, প্রতিপত্তি, পরিচয়— সবই হারিয়ে যায়। অহংকারের পরিণতি ইতিহাস সাক্ষী— অহংকারী মানুষের পতন অবধারিত। রাজা নমরূদ, ফেরাউন কিংবা আধুনিক যুগের শক্তিমানদের কাহিনি — সকলেই দেখিয়ে দিয়েছে যে, ক্ষমতার মুকুট স্থায়ী নয়। সময় একদিন সব কেড়ে নেয়। অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়, বিনয়হীন করে তোলে, আর শেষ পর্যন্ত তাকে একাকিত্বের গহ্বরে ফেলে দেয়। বিনয়ই মানবতার অলংকার অহংকার মানুষকে নিচে নামায়, আর বিনয় মানুষকে মহৎ করে তোলে। যে জানে, সে জানে না— সেই আসল জ্...

মানুষই শয়তান, আবার মানুষই ফেরেস্তা! — মানুষের দ্বৈত সত্তার বিশ্লেষণ

ছবি
  মানুষই শয়তান, আবার মানুষই ফেরেস্তা! মানুষই শয়তান, আবার মানুষই ফেরেস্তা! মানুষ এক আশ্চর্য সৃষ্টি। তার ভেতরে একদিকে যেমন অসীম ভালোবাসা, সহানুভূতি ও ত্যাগের গুণ লুকিয়ে আছে, অন্যদিকে রয়েছে লোভ, হিংসা, ক্রোধ ও ধ্বংসের প্রবৃত্তি । এই দুই শক্তি—শয়তানি ও ফেরেশ্তাসুলভ—সবসময়ই মানুষের ভেতরে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকে। 🔹 শয়তান ও ফেরেস্তা—দুই চেতনার যুদ্ধ কুরআন ও বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, শয়তান এক সময় ফেরেশ্তা ছিল। অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে সে পতিত হয়। কিন্তু মানুষ, যাকে মাটির তৈরি মনে করা হয়, তার ভেতরে সেই দুই চেতনারই মিশ্রণ—একদিকে আলোর দিক, অন্যদিকে অন্ধকারের টান। মানুষ যখন ন্যায়, দয়া ও মানবতার পথে চলে, তখন সে ফেরেশ্তার সমান হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন সে অহংকার, হিংসা, ক্ষমালোভ বা ঘৃণার কাছে আত্মসমর্পণ করে, তখন সে শয়তানের রূপ ধারণ করে। 🔹 গুনীজনদের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ দার্শনিক ফ্রিডরিখ নিটশে ও ইমানুয়েল কান্ট বলেছেন, মানুষ নৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই পরিপূর্ণ হয়। এই দ্বন্দ্ব না থাকলে মানুষ কেবল একটি যান্ত্রিক প্রাণী হয়ে থাকত। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথও বলেছেন—“ দোষেই গুণের পরিচয় ।”...

অবহেলিত প্রাণী কুকুর ভালো অথচ মানুষ ভালো নয়

ছবি
  অবহেলিত প্রাণী কুকুর ভালো অথচ মানুষ ভালো নয়! কুকুরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও প্রভুভক্ত মনোভাব আমাদের অনন্য শিক্ষা দেয়, অথচ মানুষই অনেক সময় স্বার্থপরতা ও নিষ্ঠুরতায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব হারায়। “কুকুর ক্ষুধার্ত থেকেও প্রভুর জন্য পাহারা দেয়, বিপদে সতর্ক করে, এমনকি নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করে না। অথচ মানুষই অনেক সময় আপনজনকেও কষ্ট দেয়।” অ বহেলিত প্রাণী কুকুর ভালো অথচ মানুষ ভালো নয়! এ বাক্যটিই আমাদের মানবসভ্যতার এক বিস্ময়কর সত্য প্রকাশ করে। কুকুর এমন এক প্রাণী, যাকে মানুষ শত অবহেলা করে তাড়ায়, পাথর ছোড়ে, লাঠি চালায়, তবুও কুকুরের হৃদয়ে তার প্রভুর প্রতি থাকে অসীম ভালোবাসা আর বিশ্বস্ততা। সে ক্ষুধার্ত থাকলেও প্রভুর জন্য পাহারা দেয়, বিপদে অন্ধকার রাতে ঘেউ ঘেউ করে সতর্ক করে, এমনকি নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করে না। কুকুরের এই প্রভুভক্ত মনোভাব নিঃস্বার্থ—তার বিনিময়ে সে কিছুই প্রত্যাশা করে না, কেবল সামান্য আদরই তার পুরস্কার। অন্যদিকে মানুষ, যে সৃষ্টির সেরা জীব, অনেক সময় স্বার্থপরতা...