পোস্টগুলি

ভুটান ফ্রুন্টসলিং ঘুরাঘুরির গল্প

ছবি
                সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভুটান ফ্রুন্টসলিং ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় একবার আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে ভারত গিয়েছিলাম। সময়টা ছিলো ১৯৯৩ সাল। যেদিন বেনাপোল বর্ডার পাড় হয়ে ওপার বনগাঁ পৌঁছেছিলাম, সেদিন ছিলো পহেলা বৈশাখ ১৪০০ বঙ্গাব্দ।  সেদিনের ওই যাত্রায় আমরা ছিলাম চারজন। আমি, আমার বন্ধু ও বন্ধুর দুই বোন। বনগাঁ থেকে রাত দশটার ট্রেনে চড়ে দমদম নামলাম। রাত তখন প্রায়ই বারোটা।  তারপর আমার বন্ধুর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর বাড়িতে গেলাম, রাতা কাটানোর জন্য। সেই বাড়িতে রাত কাটিয়ে পরদিন ভোরবেলা দমদম থেকে শিয়ালদা। শিয়ালদা নেমে একটা অটো চেপে সোজা বন্ধুর বাসায়।  ওই বন্ধুর বাড়িতে রাত যাপন করে খুবই ভোরবেলা আবার দমদম রেলস্টেশনে এলাম, শিয়ালদহ যাবার জন্য। যখন দমদম রেলস্টেশনে এলাম, তখনও শিয়ালদহ গামী ট্রেন দমদম রেলস্টেশনে পৌঁছায়নি। এই ফাঁকে আমার বন্ধু স্টেশন থেকে চারটে টিকেট সংগ্রহ করে ফেললো। ট্রেন আসতে তখনও মিনিট কয়েক বাকি ছিলো। একসময় শিয়ালদাহ গামী ইলেকট্রনিক ট্রেন দমদম স্টেশনে এসে দাঁড়ালো। দমদম স্টেশনে নামার মতো যাত্রীরা ট্রেন থেকে নামলো আমরা চারজ...

ভারতের মেট্রোরেলে চড়ার আনন্দ ও অভিজ্ঞতার গল্প

ছবি
                    কলকাতা ধর্মতলা মেট্রোরেল স্টেশন। একসময় ভারতের মাটিতে পা রেখেছিলাম, ১৪০০ বঙ্গাব্দ। তখন  বৈশাখমাস। বাংলাদেশ থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে দালাল মারফত অতি কষ্টে সীমান্ত পেরিয়ে বনগাঁ রেলস্টেশন পৌঁছেছিলাম। আমার সাথে ছিল, আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ওর দুই বোন।  যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, জীবনটাকে একটু পরিবর্তন করার। কিন্তু না, জীবন তো পরিবর্তন করতে পারি-ই-নি, বরং ওখানে প্রায় দেড়বছর অবস্থান করে শেষাবধি শূন্য হাতে আবার ফিরে আসতে হলো। এরমধ্যে লাভ হয়েছিল, বিশাল ভারত-সহ ভারত ঘেঁষা ভুটানের কয়েকটা জায়গা দেখা হয়েছিল। তো যাক সেকথা, পোস্টের মূল কথায়। ভারত যাবার পর আমার বন্ধু বাসায় অবস্থানের পর, আমার যেন কিছুই ভালো লাগছিল না। ভালো না লাগার কারণ ছিল, বাংলাদেশে ফেলে রাখা স্ত্রী-সন্তাদের নিয়ে চিন্তা। সেই চিন্তা মনের ভেতরে রেখেই কাটিয়ে দিলাম চার-পাঁচদিন।  চার-পাঁচদিন পর একদিন সকালবেলা আমার বন্ধু কানাই বলল, “চল দুইজনে টাউনে গিয়ে ঘুরে আসি।” জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় যাবি?”  কানাই বলল, “আজ তোকে মেট্রো ট্রেনে চড়াব। আর সময় পেলে ...

ভুটানের গুমটু টাউনে ঘুরাঘুরির গল্প

ছবি
  ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার বীরপাড়া সংলগ্ন        মাকড়াপাড়া  ঘেঁষা ভুটানের গুমটু সীমান্ত গেইট।  একবার আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে ভারত গিয়েছিলাম। সময়টা তখন ১৯৯৩ ইংরেজি ১৪০০ বঙ্গাব্দ। গিয়েছিলাম মস্ত বড় আশা নিয়ে। কিন্তু মনের সেই আশা আর পূরণ হয়নি। খামোখা দেড়বছ নিজের পরিবারবর্গ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেছিলাম। লাভের মধ্যে ভাল হয়েছিল আমার বড়দি'র বাড়ির আশপাশে থাকা ভুটানের কয়েকটা জায়গায় ঘুরতে পেরেছিলাম।  আমার বড়দি'র বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার বীরপাড়া। বীরপাড়া গিয়েছিলাম, ১৯৯৩ ইং, পহেলা বৈশাখ ১৪০০ বঙ্গাব্দ। বীরপাড়া হলো কোলকাতা থেকে শিলিগুড়ি হয়ে মিজোরাম যাওয়ার পথিমধ্যে।  বীরপাড়া ভুটানের পাহাড় ঘেঁষা চা-বাগানের লীলাভূমি জনবহুল একটা জায়গার নাম। আর আমার বড়দি'র বাড়ি হলো, বীরপাড়া এলাকায় রাবিন্দ্র নগর কলোনি।  কোলকাতা থেকে বড়দি'র বাড়ি বীরপাড়া গিয়েছিলাম খুবই বিপদে পড়ে। এমনই এক বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম যে, তখন আমার বড়দি'র বাড়িই ছিলো একমাত্র ভরসা।  আশা ভরসার একমাত্র উপায় হলেও  বড়দি'র বাড়ি ছিলো আমার অচেনা। তবে আমার মনে খ...

জীবনের গল্প-৩০

ছবি
                     শ্রী নিতাই চন্দ্র পাল (নিতাই বাবু) জীবনের গল্প-২৯ শেষাংশ↓↓ দিদির বাড়িতে তখনো কেউ ঘুমায়নি। সবাই ঘরে বসে টেলিভিশনে কবিগুরু রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান দেখছিল। জীবনের গল্প-৩০ আরম্ভ↓↓ আমার বড়দি'র বাড়িতে দুইজন ব্যাচেলর থাকতো। ওদের বাড়ি ছিলো মেদিনীপুর। ওরা বীর পাড়ায় অবস্থিত একটা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে চাকরি করতো।  রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর ওই দুইজন ছেলের সাথে ঘুমানোর জায়গা হলো। পরদিন সকাল বেলা বড়দি আমাকে ঘুম থেকে জাগালো। বেলা তখন সকাল দশটার মতো বাজে। তখন ভাড়াটিয়া ছেলে দুটোও ঘরে ছিলো না। ওরা সকাল আটটার সাথে সাথেই ওদের কাজে চলে গিয়েছিল।  দিদি আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “ওখানেও কি তুই এতো দেরি করে ঘুম থেকে উঠিস?” বললাম, “না দিদি, অনেক রাতে ঘুমিয়েছি তো, তাই একটু দেরিতে ঘুম ভাঙলো।” এরপর ঘুম থেকে উঠে স্নানঘর থেকে হাত-মুখ ধুলাম। চা-বিস্কুট খেয়ে বের হলাম, বীরপাড়া বাজারের উদ্দেশে। বীরপাড়া বাজারে গিয়ে বাজারে শেষ মাথায় একটা চায়ের দোকানের সামনে গেলাম। গিয়ে দেখি ভুটান ভুটান বলে জীপ গাড়ির হেলপাররা চিল্লাচিল্লি করছে। তা শুন...

জীবনের গল্প-২৯

ছবি
                     শ্রী নিতাই চন্দ্র পাল (নিতাই বাবু) জীবনের গল্প-২৮ শেষাংশ↓↓ বড়দি'র বিয়ে হবার ১৫ দিন পরই, তারা সপরিবারে ভারত চলে আসে। এই আসাই এপর্যন্ত। আর আমি বড়দি'র সামনে এসেছি প্রায় ২৯ বছর পর। জীবনের গল্প-২৯ আরম্ভ↓↓ বড়দি মা-বাবা-সহ আমার আরও অনেক আত্মীয়স্বজনদের কথা জিজ্ঞেস করলো। সব কথার উত্তর দিলাম। দিদি জামাইবাবু-সহ বাড়ির আশেপাশের সবাই শুনলো। তারপর আমার হাতে ধরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলো। দিদির সাথে গেলাম বাড়ির ভেতরে।  মুহূর্তের মধ্যে রাবিন্দ্র নগর কলোনি এরিয়ায় খবর পৌঁছে গেলো যে, বাংলাদেশ থেকে অষ্টমদের ছোট মামা এসেছে। এই খবর শুনে দিদি বাড়ির আশপাশে থাকা প্রত্যেক বাড়ির মহিলা-পুরুষ দিদির বাড়ি আসতে লাগলো। সবাই বলতে লাগলো,“এতো বছর পর বুঝি দিদির কথা মনে পড়লো?” কেউ আবার তাদের বাংলাদেশে থাকা বাড়ি-ঘরের কথাও জিজ্ঞেস করতে লাগলো।  ওখানে বসবাসকারী বেশিরভাগ বাঙালি হিন্দুদের পূর্বপুরুষদের বাড়ি একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাশহরে ছিলো। কারোর বাড়ি ফরিদপুর, কারোর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ, কারোর বাড়ি গোপালগঞ্জ। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে কারোর আত্...

জীবনের গল্প-২৮

ছবি
                    শ্রী নিতাই চন্দ্র পাল (নিতাই বাবু) জীবনের গল্প-২৭ শেষাংশ↓↓ তারপরও তার অভাব নেই! এই টাকা দিয়েই তার ছোট সংসার খুব সুন্দরভাবে চলছে। জানলাম রিকশাওয়ালার কাছ থেকে।  জীবনের গল্প-২৮ আরম্ভ↓↓ প্রায় ১০ মিনিট হতে-না-হতেই রিকশাওয়ালা আমাকে বলছে, “ও-ই যে রবীন্দ্র নগর কলোনি দেখা যাচ্ছে, দাদা।” রিকসাওয়ালার কথা শুনে মনের ভেতরে একটু আনন্দ অনুভূত হলেও সাথে বেড়ে যায় চিন্তা! কারণ আমি বড় দিদির কাছে অপরিচিত একজন।  আনন্দ আর চিন্তা ভরা মন নিয়ে রিকশা চড়ে যাচ্ছিলাম, রবীন্দ্র নগর কলোনির দিকে। রাস্তার দু’পাশে বড়বড় নানারকম পুরানো গাছ। সেখানে  ইটপাটকেলের তৈরি দালানঘর খুব কম। যা দেখা যায়, তা প্রায় সবই বাঁশখুটি ও কাঠের তৈরি টিনের বেড়া আর টালির ছাউনি ঘর।  মাঝে-মাঝে ভুটানিদের কাঠের টংঘর। টংঘরের নিচে শুকর, ভেড়া, মুরগির খামার। উপরে থাকে ভুটানিদের থাকার ব্যবস্থা। ঘরগুলো দেখতে খুবই সুন্দর! বাড়ির চারদিকে নানারকম ফুলগাছ লাগানো থাকে। থাকে সুপারি গাছ সহ নানারকম ফল-ফলারি গাছও।  অন্যান্য গাছের মধ্যে সেখানে সুপারি গাছই বেশি। হ...

জীবনের গল্প-২৭

ছবি
                      শ্রী নিতাই চন্দ্র পাল (নিতাই বাবু) জীবনের গল্প-২৬ শেষাংশ↓↓ কানাই বলল, ”ধর্মতলা যাবো জলপাইগুড়ির একটা টিকেটের জন্য।” তখন বুঝলাম আগামীকালই আমি বাঘা যতীন ত্যাগ করছি। জীবনের গল্প-২৭ আরম্ভ↓↓ আমি তাড়াতাড়ি করে জামাকাপড় পড়ে নিলাম, কানাইতো আগেই রেডি। একটা অটো চেপে ধর্মতলা উত্তরবঙ্গ বাসস্ট্যান্ডে গেলাম। কিন্তু টিকেট আর কেনা হলো না। কারণ, তখন অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল, তাই আরও আগে থেকেই টিকেট কাউন্টার বন্ধ।  টিকেট নিতে হলে সকাল ১০ টায় কাউন্টারে আসতে হবে। গাড়ি ছাড়বে দুপুর ২টায়। তা-ই হবে, টিকেট সংগ্রহ সকালেই হবে বললো, “কানাই।”  তারপর ধর্মতলা অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করে রাত ১০টায় ফিরে এলাম বাঘা যতীন। সেদিন আমাদের ভাগ্যটা ভালোই ছিল। কেননা, বাংলাদেশ থেকে ভারতের বাঘা যতীন আসলাম অনেক দিন হলো। অনেক দিনের মধ্যে এই প্রথম বাড়িওয়ালার ঘরে রাতের খাবার কপালে জুটলো।  সবাই একসাথে বসেই রাতের খাবার খেয়েছিলাম। খাবার শেষে বাড়িওয়ালার পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দিলাম, আগামীকাল বোনের বাড়ি রওনা দিচ্ছি। সেই সাথে ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর ...